হাওড়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হলো বাস। সুদূর শ্যামপুর থেকে উদয়নারায়নপুর এইসব অঞ্চলের যারা কলকাতা এবং তার সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। আমাদের কাজ হারানোর আশঙ্কা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত, আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে ব্যাপারটা, ধরুন শ্যামপুর একজন নিত্যযাত্রী ১০০থেকে ১২০ টাকায় যাতায়াত করতে পারতেন কলকাতায় অর্থাৎ ২৫ দিন(রবিবার এবং ছুটি বাদে) কাজে গেলে তার খরচ হতো আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা, লকডাউন এর ফলে অনেকেই যা বেতন পেতেন, তার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেতন পাচ্ছেন, তর্কের খাতিরে যদি নেয়া যাক কোন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরিরত কোন কর্মী শ্যামপুর থেকে একই বেতনে যাতায়াত করতে চান তাহলে তাকে অতিরিক্ত আরো ২০০ থেকে ২৪০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে, মানে প্রতিদিন তার যাতায়াত খরচ দাড়াবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, অর্থাৎ মাসে ৪০০০ থেকে ৯০০০ টাকার মধ্যে,। হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ একই সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে যেখানে পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত মানুষ গণপরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন তাদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের মাসিক আয় ১৫হাজার টাকার নিচে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে 15000 টাকা আয় করে যদি 8 থেকে 9 হাজার টাকা যাতায়াত খরচ করে ফেলেন তাহলে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করবে কি করে? আর যদি প্রত্যহ কর্মস্থলে পৌঁছতে না পারেন তাহলে চাকরি হারাবেন ও বেতন বন্ধ হয়ে যাবে,রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের এই তুঘলুকি সিদ্ধান্ত আগামী দিনে গ্রাম বাংলার অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চলেছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা, এবং বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আগামী দিনে শ্যামপুর, বাগনান ,আমতা, উদয়নারায়নপুরসহ কলকাতা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বহু সংখ্যক মানুষ কাজ হারাবেন, বেকারত্ব বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার রাজ্যের পরিবহন দপ্তর এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন কিনা!

বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি রিপোর্ট উলুবেড়িয়া টিভি

এরকম ধরণের আরো খবর জানতে চোখ রাখুন ULUBERIA TV

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Design a site like this with WordPress.com
শুরু করুন