খাবার নেই, টাকা নেই! বাড়ি ফেরার তাগিদে প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে হেঁটে চলেছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা|ULUBERIA TV

৮ থেকে ৮০, ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে। কেউ রয়েছেন গর্ভবতীও। পরিযায়ী শ্রমিকদের তালিকায় রয়েছেন সকলেই। লকডাউনের জেরে রুটি-রুজি বন্ধ। বাড়ির ফেরার জন্য মেলেনি ট্রেন-বাস। উপায় না পেয়ে পায়ে হেঁটেই হাজার হাজার কিলোমিটার পেরোনোর স্বপ্ন দেখছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবু তাঁরা পথচলা থামাননি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সকল পরিযায়ী শ্রমিকরাই মাইলের পর মাইল রাস্তার ধার ধরে হেঁটে চলেছেন। এদের বেশিরভাগ জনের কাছেই কোনও টাকা-পয়সা নেই, নেই খাবারও। কীভাবে, কতদিনে তাঁরা বাড়ি পৌঁছাবেন, জানেন না তাঁরা। কিন্তু তাদের এই লড়াইয়ে কাঁদছে আজ গোটা দেশ। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, গর্ভবতী স্ত্রীকে মেকেশিফ্ট কার্টে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আবার কোথাও চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে ট্রলির উপরই ঘুমিয়ে পড়েছে কয়েক বছরের শিশু।

কিছুদিন আগেই আওরাঙ্গাবাদের রেল দুর্ঘটনার কথা সংবাদ শিরোনামে জায়গা পেয়েছিল। চলতে চলতে রেললাইনের উপরই ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিয়েছিল একদল পরিযায়ী শ্রমিক। গভীর ঘুমে কখন চলন্ত ট্রেন তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সেটি তারা জানতেও পারেননি। হাইওয়ের উপরেও বেশ কিছু দুর্ঘনটার খবর আমাদের সামনে এসেছে।

রাহুল, মধ্যপ্রদেশের দিন আনা দিন খাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক তিনি। জমানো টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় নিজের সঙ্গে থাকা একটি ষাঁড় বেঁচে দেন তিনি। বিক্রির সেই টাকায় অত্যাবশ্যকীয় কিছু জিনিস কেনেন রাহুল। এরপর ষাঁড়ের সেই গাড়িটিতে করেই পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দেন। তাঁর পরিবারকে যেন হাঁটতে না হয়, সেই কারণে ষাঁড়ের গাড়িটি নিজেই টানছেন তিনি।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Design a site like this with WordPress.com
শুরু করুন